Site icon Glance Today

বিজনেস অটোমেশন: কর্মী ছাড়াই কীভাবে ব্যবসা চলবে অটোপাইলটে? সম্পূর্ণ গাইড

business automation

বিজনেস অটোমেশন: কর্মী ছাড়াই কীভাবে ব্যবসা চলবে অটোপাইলটে? সম্পূর্ণ গাইড

আপনি কি সারাদিন আপনার ব্যবসার ছোটখাটো কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে ব্যবসার মূল প্রবৃদ্ধি বা গ্রোথ নিয়ে ভাবার সময় পান না? কাস্টমারকে ইমেইল পাঠানো, ইনভয়েস তৈরি করা, বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা—এই কাজগুলো করতে গিয়েই কি আপনার দিন শেষ হয়ে যায়?

যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আপনার ব্যবসার যেটা প্রয়োজন তার নাম—বিজনেস অটোমেশন (Business Automation)

বিশ্বের সফল ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার ৮০% কাজ অটোমেট বা স্বয়ংক্রিয় করে রাখেন। এর ফলে তারা যখন ঘুমান বা ছুটিতে থাকেন, তখনও তাদের ব্যবসা চলতে থাকে এবং আয় হতে থাকে।

আজকের ব্লগে আমরা দেখব বিজনেস অটোমেশন কী এবং কীভাবে আপনি এটি আপনার ছোট বা মাঝারি ব্যবসায় প্রয়োগ করবেন।

বিজনেস অটোমেশন কী?

সহজ কথায়, বিজনেস অটোমেশন হলো প্রযুক্তির (Technology) ব্যবহার করে ব্যবসার পুনরাবৃত্তিমূলক বা একঘেয়ে কাজগুলো (Repetitive Tasks) মানুষের সাহায্য ছাড়াই সম্পন্ন করা।

ভাবুন তো, আপনার ওয়েবসাইটে কেউ ফর্ম ফিলাপ করল এবং সাথে সাথে তার কাছে একটি ওয়েলকাম ইমেইল চলে গেল, তার তথ্য আপনার এক্সেল শিটে সেভ হয়ে গেল এবং আপনার সেলস টিমের কাছে একটি নোটিফিকেশন চলে গেল—এই পুরো প্রক্রিয়াটি হলো অটোমেশন। এর জন্য আপনাকে একটি বোতামও চাপতে হলো না।

ব্যবসার কোন ৪টি জায়গা অটোমেট করবেন?

সবকিছু অটোমেট করার দরকার নেই। মূলত এই ৪টি বিভাগ অটোমেট করলে আপনার জীবন সহজ হয়ে যাবে:

১. মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া

প্রতিদিন ফেসবুকে পোস্ট করা বা কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার।

২. সেলস এবং কাস্টমার সাপোর্ট

কাস্টমার যখন প্রশ্ন করে, তখন তারা তাৎক্ষণিক উত্তর চায়।

৩. ফিনান্স এবং অ্যাকাউন্টিং

টাকা পয়সার হিসাব রাখা সবচেয়ে বোরিং কিন্তু জরুরি কাজ।

৪. টিম ম্যানেজমেন্ট

কাকে কী কাজ দিয়েছেন তা মনে রাখা কঠিন।

অটোমেশন শুরু করার ৩টি সহজ ধাপ

অটোমেশন মানেই রকেট সায়েন্স নয়। আপনি আজই এটি শুরু করতে পারেন।

ধাপ ১: রিপিটেটিভ কাজগুলো চিহ্নিত করুন এক সপ্তাহ ধরে খেয়াল করুন কোন কাজগুলো আপনি বারবার করছেন। যেমন:

ধাপ ২: সঠিক টুল (Tool) বেছে নিন আপনার বাজেট অনুযায়ী টুল বা সফটওয়্যার বেছে নিন। ছোট ব্যবসার জন্য অনেক ফ্রি টুল পাওয়া যায়।

ধাপ ৩: টেস্ট এবং রান প্রথমে একটি ছোট কাজ অটোমেট করুন। দেখুন ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা। তারপর ধীরে ধীরে বড় প্রসেসগুলো অটোমেশনে আনুন।

অটোমেশনের সুবিধা: কেন করবেন?

১. সময় সাশ্রয়: আপনি সপ্তাহে অন্তত ১০-১৫ ঘণ্টা বাঁচাতে পারবেন। ২. খরচ কমায়: ৩ জন কর্মীর কাজ ১টি সফটওয়্যার নির্ভুলভাবে করতে পারে। ৩. ভুল কম হয়: মানুষ ক্লান্ত হলে ভুল করে, সফটওয়্যার কখনো ভুল করে না। ৪. স্কেলেবিলিটি: ১০ জন কাস্টমার হ্যান্ডেল করা আর ১০,০০০ কাস্টমার হ্যান্ডেল করা অটোমেশনের কাছে একই ব্যাপার।

সতর্কতা

অটোমেশন দারুণ, কিন্তু “হিউম্যান টাচ” হারাবেন না। কাস্টমার যখন কোনো জটিল সমস্যায় পড়ে, তখন সে রোবটের সাথে নয়, মানুষের সাথে কথা বলতে চায়। তাই ১০০% অটোমেশন করবেন না; যেখানে আবেগ বা বিচক্ষণতা দরকার, সেখানে নিজেকে বা আপনার টিমকে রাখুন।

শেষ কথা

বিজনেস অটোমেশন হলো আপনার ব্যবসার “ডিজিটাল কর্মচারী” যে ২৪/৭ কাজ করে, কোনো বেতন চায় না এবং কখনো ছুটি নেয় না। ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আপনাকে হার্ড ওয়ার্কের বদলে স্মার্ট ওয়ার্ক করতেই হবে।

আজই আপনার ব্যবসার অন্তত একটি কাজ অটোমেট করুন এবং পার্থক্যটা দেখুন!

Exit mobile version