Site icon Glance Today

একাধিক ইনকাম সোর্স তৈরির গাইড: অর্থনৈতিক স্বাধীনতার চাবিকাঠি

একাধিক ইনকাম সোর্স

একাধিক ইনকাম সোর্স তৈরির গাইড: অর্থনৈতিক স্বাধীনতার চাবিকাঠি

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যদি কাল আপনার চাকরিটা চলে যায় বা আপনার ব্যবসার প্রধান আয়ের রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পরশু থেকে আপনার সংসার কীভাবে চলবে?

এই প্রশ্নটি ভীতিজনক, কিন্তু বাস্তব। ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, “কখনো একটি আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করবেন না। দ্বিতীয় উৎস তৈরি করার জন্য বিনিয়োগ করুন।”

অধিকাংশ মানুষ তাদের পুরো জীবন একটিমাত্র বেতনের ওপর নির্ভর করে কাটিয়ে দেন। কিন্তু ধনী এবং আর্থিকভাবে স্বাধীন ব্যক্তিরা গড়ে ৭টি ভিন্ন উৎস থেকে আয় করেন। একে বলা হয় “ইনকাম ডাইভারসিফিকেশন”।

আজকের ব্লগে আমরা দেখব কীভাবে আপনি ধাপে ধাপে আপনার জন্য একাধিক আয়ের উৎস (Multiple Income Streams) তৈরি করতে পারেন।

ইনকাম সোর্সের প্রকারভেদ: অ্যাক্টিভ বনাম প্যাসিভ

শুরু করার আগে আপনাকে আয়ের দুটি প্রধান ধরন বুঝতে হবে:

১. অ্যাক্টিভ ইনকাম (Active Income): যেখানে টাকা পাওয়ার জন্য আপনাকে সরাসরি সময় ও শ্রম দিতে হয়। (যেমন: চাকরি, টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং)। কাজ বন্ধ তো টাকা বন্ধ।

২. প্যাসিভ ইনকাম (Passive Income): যেখানে আপনি একবার পরিশ্রম করেন, আর টাকা বারবার আসতে থাকে। (যেমন: বাড়ি ভাড়া, ডিভিডেন্ড, বইয়ের রয়্যালটি)।

আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত অ্যাক্টিভ ইনকাম দিয়ে শুরু করা এবং ধীরে ধীরে প্যাসিভ ইনকামের দিকে যাওয়া।

১. আপনার প্রাইমারি ইনকাম (চাকরি/ব্যবসা) ঠিক রাখুন

অনেকে ভুল করে একাধিক আয়ের নেশায় নিজের প্রধান কাজটি অবহেলা করেন। মনে রাখবেন, আপনার বর্তমান চাকরি বা ব্যবসাই হলো আপনার মূলধনের জোগানদাতা। এটিকে আরও শক্তিশালী করুন। চাকরিতে প্রমোশন বা ব্যবসায় বৃদ্ধি আপনাকে যে বাড়তি টাকা দেবে, সেটিই হবে আপনার অন্য ইনকাম সোর্স তৈরির পুঁজি।

২. সাইড হাসল (Side Hustle) শুরু করুন (অ্যাক্টিভ)

আপনার চাকরির পাশাপাশি দিনে ১-২ ঘণ্টা সময় বের করে একটি দ্বিতীয় অ্যাক্টিভ ইনকাম সোর্স তৈরি করুন।

৩. ইনভেস্টমেন্ট থেকে আয় (প্যাসিভ)

আপনার জমানো টাকা অলস বসিয়ে রাখবেন না। টাকাকে কাজে লাগান।

৪. ডিজিটাল অ্যাসেট তৈরি করুন (প্যাসিভ)

ইন্টারনেটের যুগে এটি আয়ের অন্যতম সেরা উপায়।

৫. রিয়েল এস্টেট বা ভাড়া (প্যাসিভ)

আপনার যদি পুঁজি থাকে, তবে ভাড়ার আয় হলো সেরা প্যাসিভ ইনকাম।

৪টি পায়ার টেবিল থিওরি

আপনার আর্থিক জীবনকে একটি টেবিলের সাথে তুলনা করুন।

আপনার লক্ষ্য: আগামী ২ বছরের মধ্যে অন্তত ৩টি ভিন্ন আয়ের উৎস তৈরি করা।

যেভাবে শুরু করবেন

সবকিছু একসাথে শুরু করবেন না। তাতে কোনোটাই হবে না।

১. ধাপ ১: একটি সাইড হাসল বেছে নিন যা আপনার ভালো লাগে।

২. ধাপ ২: সেখান থেকে আসা টাকা খরচ না করে পুরোটাই বিনিয়োগ করুন (স্টক বা মিউচুয়াল ফান্ডে)।

৩. ধাপ ৩: যখন সাইড হাসল স্থিতিশীল হবে, তখন ডিজিটাল কন্টেন্ট বা অন্য কোনো সোর্সে হাত দিন।

একাধিক আয়ের উৎস তৈরি করা রাতারাতি সম্ভব নয়, এটি একটি যাত্রা। আজই প্রথম পদক্ষেপটি নিন।

Exit mobile version