ছাত্রদের জন্য সেরা ৫টি রিয়েল মানি আর্নিং অ্যাপ
ছাত্রজীবনে টাকার টানাটানি কার না থাকে? বন্ধুদের সাথে আড্ডা, পছন্দের বই কেনা, বা নিজের শখ পূরণ—সবকিছুর জন্যই বাবা-মায়ের কাছে হাত পাততে খারাপ লাগে। আর স্মার্টফোনের এই যুগে সব ছাত্রছাত্রীই চায় নিজের পকেটের খরচটা অন্তত নিজেই চালাতে।
গুগল প্লে স্টোরে “Money Earning Apps” লিখে সার্চ দিলে হাজার হাজার অ্যাপ চলে আসে। কিন্তু সমস্যা হলো, এর মধ্যে ৯৫% অ্যাপই ভুয়া (Fake) বা স্ক্যাম। এগুলো আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় কিন্তু পেমেন্ট দেয় না, অথবা রেজিস্ট্রেশন ফি-র নামে উল্টো টাকা হাতিয়ে নেয়।
তাহলে উপায়?
চিন্তার কিছু নেই। “Glance Today”-এর আজকের ব্লগে আমরা এমন ৫টি ১০০% জেনুইন এবং ট্রাস্টেড অ্যাপ নিয়ে আলোচনা করব, যা ২০২৫ সালে ছাত্রছাত্রীদের আয়ের সেরা মাধ্যম হতে পারে। এগুলো কোনো “রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্কিম” নয়, বরং এগুলো আপনার মেধা এবং সময়কে কাজে লাগিয়ে সম্মানজনক আয়ের পথ দেখাবে।
১. গুগল অপিনিয়ন রিওয়ার্ডস (Google Opinion Rewards) – সবচেয়ে সহজ
যদি আপনি কোনো দক্ষতা ছাড়াই বা খুব কম সময়ে হাতখরচ বা পকেট মানি আয় করতে চান, তবে এটিই সেরা। এটি স্বয়ং গুগলের অ্যাপ, তাই বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই।
কীভাবে কাজ করে: গুগল আপনাকে মাঝে মাঝে খুব ছোট ছোট সার্ভে (Survey) পাঠাবে। যেমন—”আপনি কি এই লোগোটি পছন্দ করেন?” বা “আপনি শেষ কবে শপিং মলে গিয়েছিলেন?”। এই সহজ প্রশ্নের উত্তর দিলেই আপনি গুগল প্লে ক্রেডিট বা টাকা পাবেন।
- সুবিধা: মাত্র ১০-২০ সেকেন্ড সময় লাগে। কোনো কঠিন কাজ নেই।
- আয়: মাসে ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে (সার্ভের ওপর নির্ভরশীল)।
- ব্যবহার: এই টাকা দিয়ে আপনি প্লে স্টোর থেকে পেইড বই, মুভি বা অ্যাপ কিনতে পারবেন (কিছু দেশে পেপ্যাল-এ টাকা তোলার সুবিধাও থাকে)।
২. চেগ ইন্ডিয়া (Chegg India) – মেধাবীদের জন্য সোনার খনি
আপনি কি পড়াশোনায় ভালো? বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং বা অ্যাকাউন্টিংয়ে? তাহলে আপনার মেধা বিক্রি করে আপনি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে: চেগ হলো একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম। এখানে সারা বিশ্বের ছাত্রছাত্রীরা তাদের কঠিন সব প্রশ্ন পোস্ট করে। আপনাকে “সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট” (SME) হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং সেই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে হবে।
- সুবিধা: আপনি নিজের সময়মতো কাজ করতে পারেন। এটি আপনার নিজের পড়াশোনাকেও ঝালিয়ে নিতে সাহায্য করে।
- আয়: প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। একজন নিয়মিত ছাত্র এখান থেকে মাসে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা অনায়াসেই আয় করতে পারেন।
- যোগ্যতা: আপনাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর একটি অনলাইন টেস্ট দিয়ে পাস করতে হবে।
৩. ইন্টার্নশালা (Internshala) – ক্যারিয়ার গড়ুন, টাকাও পান
শুধু টাকা আয় নয়, যদি আপনি ভবিষ্যতের জন্য একটি মজবুত সিভি (CV) তৈরি করতে চান, তবে ইন্টার্নশালা আপনার ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ হওয়া উচিত।
কীভাবে কাজ করে: এটি ভারতের সবচেয়ে বড় ইন্টার্নশিপ প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি কন্টেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি বা কোডিংয়ের মতো হাজার হাজার “Work from Home” ইন্টার্নশিপ খুঁজে পাবেন।
- সুবিধা: আপনি কাজ শিখবেন, সার্টিফিকেট পাবেন এবং সাথে স্টাইপেন্ড (Stipend) বা বেতন পাবেন। এটি আপনার ভবিষ্যৎ চাকরির পথ সুগম করবে।
- আয়: প্রজেক্ট বা কোম্পানি ভেদে মাসে ৩,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড পাওয়া যায়।
৪. আর্নকরো (EarnKaro) – ডিল শেয়ার করে আয়
ছাত্রছাত্রীদের বন্ধু সার্কেল বা নেটওয়ার্ক খুব বড় হয়। এই নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়েই আয় করা সম্ভব আর্নকরো অ্যাপের মাধ্যমে। এটি মূলত একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অ্যাপ।
কীভাবে কাজ করে: ধরুন, আপনার বন্ধু আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে একটি জুতো বা ফোন কিনতে চাইছে।
- আপনি ওই পণ্যের লিংকটি কপি করবেন।
- আর্নকরো অ্যাপে গিয়ে লিংকটি পেস্ট করে একটি নতুন “Profit Link” তৈরি করবেন।
- সেই নতুন লিংকটি বন্ধুকে দেবেন। বন্ধু ওই লিংকে ক্লিক করে কিনলে আপনি ১০% থেকে ১৫% কমিশন পাবেন।
- সুবিধা: কোনো পণ্য নিজের কিনতে হয় না। শুধু লিংক শেয়ার করলেই আয়। ফ্যাশন, ইলেকট্রনিক্স বা বিউটি প্রোডাক্টে ভালো কমিশন থাকে।
- আয়: যদি আপনার ভালো সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়িং থাকে বা বড় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থাকে, তবে মাসে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা আয় করা কঠিন কিছু নয়।
৫. ফাইভার (Fiverr) – ফ্রিল্যান্সিংয়ের জগৎ
আপনার যদি কোনো একটি বিশেষ ডিজিটাল স্কিল থাকে (যেমন: লোগো ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ট্রান্সলেশন বা ভয়েস ওভার), তবে ফাইভার অ্যাপটি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।
কীভাবে কাজ করে: ফাইভার একটি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। এখানে আপনি আপনার সার্ভিসের জন্য “গিগ” (Gig) বা দোকান খুলবেন। যেমন: “আমি ৫০০ টাকায় আপনার ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করে দেব”। বিদেশি ক্লায়েন্টরা আপনাকে ডলারের বিনিময়ে কাজ দেবে।
- সুবিধা: এখানে আয়ের কোনো সীমা নেই। আপনি ডলার ($) আয় করবেন, তাই টাকার অঙ্কটা বেশ বড় হয়।
- টিপস: শুরুতে কম দামে কাজ করুন। ভালো রেটিং পেলে কাজের অভাব হবে না।
- আয়: মাসে ১০,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকা+ আয় করা সম্ভব (দক্ষতার ওপর নির্ভর করে)।
সাবধান! এই অ্যাপগুলো থেকে দূরে থাকুন (Red Flags) 🚫
টাকা আয়ের নেশায় ছাত্ররা প্রায়ই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে। নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো দেখলেই সাবধান হোন:
১. রেজিস্ট্রেশন ফি চায়: যে অ্যাপ আপনাকে কাজ দেওয়ার আগে আপনার কাছে টাকা চায়, সেটি ১০০% স্ক্যাম। ২. বেটিং বা জুয়া: কালার প্রেডিকশন গেম বা লুডো খেলে টাকা আয়ের অ্যাপগুলো এড়িয়ে চলুন। এগুলো আপনাকে নেশাগ্রস্ত করবে এবং পকেটের টাকা শেষ করবে। ৩. পিরামিড স্কিম: “দুজন বন্ধুকে যুক্ত করলে ৫০০ টাকা পাবেন”—এই ধরনের এমএলএম (MLM) অ্যাপ থেকে দূরে থাকুন।
শেষ কথা: পড়ালেখাই আসল
টাকা আয় করা ভালো, এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। কিন্তু মনে রাখবেন, ছাত্র হিসেবে আপনার প্রধান কাজ হলো পড়াশোনা।
এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করুন আপনার অতিরিক্ত সময়ে (Spare Time)। টাকার নেশায় যেন রেজাল্ট খারাপ না হয়ে যায়।
আমার পরামর্শ: আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদী লাভ চান, তবে Chegg বা Internshala বেছে নিন। আর যদি সহজে হাতখরচ চালাতে চান, তবে Google Opinion Rewards বা EarnKaro ব্যবহার করুন।
আজই আপনার স্মার্টফোনটিকে একটি ‘আয়ের যন্ত্রে’ পরিণত করুন!
আপনার মতে ছাত্রদের জন্য সেরা আয়ের উপায় কোনটি? কমেন্টে জানান!

