টাকার খুব দরকার? গোল্ড লোন নাকি পার্সোনাল লোন—কোনটি আপনার জন্য সস্তা?
বিপদ কখনো বলে আসে না। হঠাৎ মেডিকেল ইমার্জেন্সি, বাচ্চার স্কুল ফি, বা ব্যবসার জন্য আর্জেন্ট টাকার প্রয়োজন—এমন পরিস্থিতিতে আমাদের হাতে দুটি প্রধান রাস্তা খোলা থাকে: পার্সোনাল লোন (Personal Loan) এবং গোল্ড লোন (Gold Loan)।
কিন্তু যখন আপনি ব্যাংকে বা অ্যাপে লোনের জন্য আবেদন করেন, তখন একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে—“কোনটিতে সুদ কম? কোনটিতে আমার লোকসান কম হবে?”
অনেকে লজ্জায় সোনার গয়না বন্ধক রাখতে চান না, আবার অনেকে পার্সোনাল লোনের বিশাল সুদের ভয়ে পিছিয়ে আসেন।
“Glance Today”-এর আজকের ব্লগে আমরা এই দুটি ঋণের চুলচেরা বিশ্লেষণ করব। আমরা দেখব সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং ঝুঁকির দিক থেকে কোনটি আপনার জন্য সেরা বিকল্প।
গোল্ড লোন (Gold Loan): সোনা যখন বিপদের বন্ধু
ভারতীয় পরিবারে সোনা বা গোল্ড হলো “লক্ষ্মী”। কিন্তু ইমোশন সরিয়ে রাখলে, সোনা হলো বিপদের দিনের সেরা সম্পদ।
গোল্ড লোন কী? এটি একটি “সিকিউরড লোন” (Secured Loan)। আপনি আপনার সোনা ব্যাংকে জমা (বন্ধক) রাখেন এবং তার বিনিময়ে ব্যাংক আপনাকে টাকা দেয়। টাকা শোধ করে দিলে সোনা ফেরত পান।
সুবিধাসমূহ: ১. কম সুদ: যেহেতু ব্যাংকের কাছে আপনার সোনা জমা থাকে, তাই তাদের ঝুঁকি কম। ফলে সুদের হারও কম (সাধারণত ৮.৫% থেকে ১১% বার্ষিক)। ২. সিভিল স্কোরের চিন্তা নেই: আপনার ক্রেডিট স্কোর ৩০০ হলেও আপনি গোল্ড লোন পাবেন। কারণ সোনা-ই এখানে গ্যারান্টার। ৩. দ্রুত প্রসেসিং: কোনো পেপারওয়ার্ক বা ইনকাম প্রুফ লাগে না। ১ ঘণ্টার মধ্যে টাকা হাতে পাওয়া যায়।
পার্সোনাল লোন (Personal Loan): জামানতহীন ঋণ
পার্সোনাল লোন কী? এটি একটি “আনসিকিউরড লোন” (Unsecured Loan)। ব্যাংক আপনাকে কোনো কিছু বন্ধক ছাড়াই শুধুমাত্র আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বা সিভিল স্কোরের ওপর ভিত্তি করে লোন দেয়।
সুবিধাসমূহ: ১. কিছু বন্ধক রাখতে হয় না: আপনার গয়না বা সম্পত্তি কিছুই ব্যাংকে জমা দিতে হবে না। ২. গোপনীয়তা: আপনি লোন নিচ্ছেন তা কেউ জানতে পারে না (গোল্ড লোনে ব্যাংকে গয়না নিয়ে যেতে অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন)। ৩. বড় অঙ্ক: আপনার স্যালারি ভালো হলে আপনি ২০-২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন।
মুখোমুখি তুলনা: গোল্ড লোন বনাম পার্সোনাল লোন
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই তুলনাটি দেখুন:
| বৈশিষ্ট্য | গোল্ড লোন (Gold Loan) | পার্সোনাল লোন (Personal Loan) |
|---|---|---|
| সুদের হার | কম (৮.৫% – ১১%) | বেশি (১০.৫% – ২৪%) |
| সিভিল স্কোর | প্রয়োজন নেই | ৭৫০+ বাধ্যতামূলক |
| প্রসেসিং ফি | নামমাত্র বা শূন্য | ঋণের ১% – ৩% |
| লোন পাওয়ার সময় | ১-২ ঘণ্টা | ২৪ ঘণ্টা থেকে ৭ দিন |
| ইনকাম প্রুফ | লাগে না | স্যালারি স্লিপ বা ITR বাধ্যতামূলক |
| মেয়াদ (Tenure) | স্বল্পমেয়াদী (১-৩ বছর) | দীর্ঘমেয়াদী (১-৫ বছর) |
কোনটি আপনার জন্য সস্তা? (গাণিতিক হিসাব)
আসুন ৫ লক্ষ টাকার একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝি।
পার্সোনাল লোন
- লোনের পরিমাণ: ৫ লক্ষ টাকা
- সুদের হার: ১৪% (গড়)
- মেয়াদ: ২ বছর
- মোট সুদ দিতে হবে: প্রায় ৭৬,০০০ টাকা
গোল্ড লোন
- লোনের পরিমাণ: ৫ লক্ষ টাকা
- সুদের হার: ৯% (গড়)
- মেয়াদ: ২ বছর
- মোট সুদ দিতে হবে: প্রায় ৪৮,০০০ টাকা
ফলাফল: গোল্ড লোন নিলে আপনি সোজা ২৮,০০০ টাকা সাশ্রয় করছেন! অর্থাৎ, আর্থিক দিক থেকে গোল্ড লোন অনেক সস্তা।
কখন কোনটি নেবেন? (সিদ্ধান্ত নেওয়ার গাইড)
গোল্ড লোন বেছে নিন, যদি:
- আপনার ইমার্জেন্সি টাকার দরকার (আজকেই চাই)।
- আপনার সিভিল স্কোর খারাপ বা কোনো ইনকাম প্রুফ নেই।
- আপনি লোনটি দ্রুত (১-২ বছরের মধ্যে) শোধ করে দিতে পারবেন।
- আপনি কম সুদ দিতে চান।
পার্সোনাল লোন বেছে নিন, যদি:
- আপনার কাছে পর্যাপ্ত সোনা নেই।
- আপনার সিভিল স্কোর খুব ভালো (৭৫০+) এবং আপনি ভালো কোম্পানিতে চাকরি করেন (ফলে কম সুদে লোন পাবেন)।
- আপনি দীর্ঘমেয়াদী (৩-৫ বছর) লোন চান এবং প্রতি মাসে ইএমআই দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
- আপনি গয়না ব্যাংকে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চান না।
শেষ কথা: সোনা বিক্রির ভুল করবেন না
অনেকে টাকার প্রয়োজনে সোনা বিক্রি করে দেন। এটি একটি বড় ভুল। সোনা বিক্রি করলে আপনি মেকিং চার্জ এবং জিএসটি-র টাকা হারান এবং ভবিষ্যতে ওই সোনা কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগে।
তার চেয়ে গোল্ড লোন নেওয়া অনেক বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার সম্পদ আপনারই থাকে, শুধু সাময়িক সময়ের জন্য ব্যাংকে জমা থাকে।
বিপদের দিনে ইমোশন নয়, ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। গোল্ড লোন আপনার পকেটের ওপর চাপ অনেক কমিয়ে দিতে পারে।
আপনি বিপদে পড়লে কোনটিকে বেছে নেবেন? কমেন্টে জানান!

